দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। কর্মমুখী ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করে সেখানে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে এই খসড়া পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই দিন বিকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও নতুন শিক্ষাক্রমের নানা রূপরেখা তুলে ধরেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী, বাতিল হতে যাওয়া অনার্স কোর্সগুলোকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর বিপরীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে।
সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকেই পাঠ্যক্রমে এই বড় রদবদলের পথে হাঁটছে মন্ত্রণালয়।
শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সরাসরি সংযোগ ঘটাতে নতুন পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি ও আউটসোর্সিংয়ের মতো যুগোপযোগী বিষয় যুক্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া কলেজ পর্যায়েই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন এবং সাতটি বিদেশি ভাষা শেখানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে বাস্তব কর্মসংস্থানের কোনো মিল না থাকায় দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। গত ১৩ বছরে দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় আট গুণ বেড়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ কমাতে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও সময়সীমা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
বর্তমানে এই দুটি বড় পাবলিক পরীক্ষা শেষ করতে ২৫ থেকে ৩৫ কর্মদিবস সময় লেগে যায়। এতে দীর্ঘ সময় স্কুল-কলেজগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জটলা তৈরি হয়।
সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৭ সালে বিদ্যমান শিক্ষাক্রমটি পরিমার্জন করে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষায় সম্পূর্ণ নতুন কাঠামো বা ‘টোটাল চেইঞ্জ’ দেখতে পাবে দেশবাসী।
নতুন এই শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নামে দুটি বিষয় যুক্ত হবে। এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পড়ানো হবে।
পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা শিক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কোনো একটি বিষয়ের সঙ্গে এটি বড় অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হতে পারে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও শিক্ষাক্রমে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে যুগোপযোগী নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়েছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট